ক্ষুদ্র পরিসরে ই-কর্মাস ব্যবসা শুরু করার জন্য যা লাগবে

সাধারণত ইন্টারনেট বিজনেস বলতে ই-কমার্স শব্দটাই বেশি ব্যবহার হয়। অনলাইনে ওয়েবসাইট থেকে কেনা গেলে সেটা ই-কমার্সই বলে। সেই অর্থে বিষয়টা ঠিক আছে । কিন্তু এই ই-কমার্স মানেই পুরো ইন্টারনেট বিজনেসকে বুঝায় না । সেই বিষয় আরেক দিন লিখবো। ধরে নিলাম আপনি অনলাইনে একটা ওয়েব সাইট খুলে তা থেকে কিছু বিক্রয় করতে চাচ্ছেন। এই ই-কমার্স ব্যবসা শুরু করতে গেলে আপনার কি লাগবে তাই নিয়ে আজ লিখছি।
এখানকার পত্রিকায় , সোশ্যাল মিডিয়া , এখন পর্যন্ত নেয়া উদ্যোগ গুলোর দিকে তাকালে সহজেই মনে হতে পারে ই-কমার্স মানে অনেক বড় কিছু , অনেক টাকা লাগবে এবং কারিগরি বিষয়ে অনেক দক্ষ হতে হবে। আসলে বিষয়টি মোটেও সেকরম নয়। ইন্টারনেটের এতো জনপ্রিয়তার অন্যতম কারন ব্যাক্তি পর্যায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের উদ্যোগ । আপনি যদি ওয়েব ব্রাউজ করে থাকেন দেখবেন এমন অনেক সাইট আপনি পেয়ে যাবেন যা থেকে অল্প কিছু প্রোডাক্ট বিক্রি হচ্ছে । সাইটটি ভালোই উপার্জন করছে ।
ক্ষুদ্র পরিসরে  ই-কর্মাস সাইট  তৈরি করার জন্য যা লাগবেঃ
১) লাভ জনক  মৌলিক  আইডিয়া বের করাঃ
আইডিয়াটা মৌলিক হওয়া খুব গুরুত্বপূর্ন । অন্যের দেখাদেখি আপনিও একই ব্যবসা শুরু করতে না চাওয়াই ভালো । চাইলেই অনেক সহজেই ভালো কিছু আইডিয়া খুজে পাবেন।  খুব ভালো হয় যদি আপনি যে বিষয়ে ভালো জানেন তা নিয়ে শুরু করা । অথবা আপনার শখ বা যে বিষয়ে আপনার বেশ আগ্রহ আছে সেই বিষয়ও আপনি নির্বাচন করতে পারেন। যদি মাথায় কিছু না আসে তাহলে যখন বিভিন্ন ধরনের সাইট ব্রাউজ করেন তা দেখে আইডিয়া নেয়ার চেস্টা করতে পারেন । এমন অনেক সাইট আছে যার মতো আমাদের এখানেও করা যায়। এমন কিছু পেলে লিখে রাখতে পারেন । অনেক গুলো আইডিয়া জমলে সেগুলো সাম্ভাব্যতা যাচাই করে কোন একটা নির্বাচন করতে পারেন।
২) টার্গেট মার্কেট নির্দিস্ট করা 
 আপনি সবাইকে টার্গেট করলে ভূল করবেন।সবার জন্য প্রোডাক্ট নিয়ে ব্যবসা শুরু করাও ভুল ।যাদের অনেক বাজেট অনলাইন মেগাস্টোর করতে চায় তাদের জন্য বিষয়টা ঠিক আছে।আপনার উচিত হবে নির্দিস্ট একটা বিষয় নিয়ে কাজ করা । অনলাইন বিজনেসের ক্ষেত্রে নিশ মার্কেটিং একটা খুব জনপ্রিয় ধারনা। এই ভালো একটা নিশ কে টার্গেট করে এগুলো ভালো করবেন।
৩) ব্যবসার জন্য পরিক্লপনা তৈরিঃ
  এখানেই আমরা অনেক ভূল করি । আমাদের সাথে পাশ্চাত্যের ব্যবসায়ীদের পার্থক্য এখানে । আমরা ব্যবসার জন্য পরিক্লপনা না তৈরি করেই ব্যবসা শুরু করে দেই । এজন্য অধিকাংশ ব্যবসায়ী মাঝখানে এসে হোছট খায় অথবা জানে না গন্তব্য কি । আমার মতে খুব সংক্ষিপ্ত হলেও মানে এক দুই পাতার হলেও একটা পরিকল্পনা আপনার অবশ্যয় করা উচিত । কিভাবে তৈরি করতে হবে এই পরিক্লপনা ও নিজের ব্যবসা তৈরি করা নিয়ে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। এখন প্রায়  ফ্রিল্যান্সার থেকে উদ্যোক্তা হওয়া নিয়ে সভা সেমিনার হচ্ছে , পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে। উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য এই সাইটটির কোর্সটি বেশ কাজে দিবে।
৪) সাইট তৈরি /টেকনিক্যাল সলিউশ্যান
 পৃথিবীব্যাপি ওয়ার্ডপ্রস সেই ক্ষেত্রে খুবই জনপ্রিয় । একটা প্রিমিয়াম থিম ( ৫০-৬০ ডলার ) , একটা ই-কমার্স প্লাগিন ( jigoshop , woocommerce )  দিয়ে শুরু একটা স্টোর তৈরি করা খুব সহজ। jigoshop ফ্রি ভার্সন দিয়ে চেস্টা করতে পারেন। যেকোনো ই-কমার্স প্লাগিন ক্রেডিট কার্ড পেমেন্ট গ্রহন করতে পারে। বাংলাদেশের ক্রেডিট কার্ড গুলো যদি সমস্যা করে তাহলে  যারা ক্রেডিট কার্ডে পেমেন্ট করতে চাইবে তাদের জন্য আলাদা প্লাগিন তৈরির অথবা এড-অন তৈরির প্রয়োজন হতে পারে।